Food Guides
হাম হলে কী কী খাওয়া উচিত? ৭টি পুষ্টিকর খাবার ও করণীয়

হাম হলে কী কী খাওয়া উচিত? ৭টি পুষ্টিকর খাবার ও করণীয়
হাম হলে কী খেতে হবে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জ্বর ও অসুস্থতার সময় শরীরে পানি ও পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে। হাম (Measles) হলে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, শরীরে র্যাশ, মুখে অস্বস্তি এবং ক্ষুধা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই হাম হলে কী কী খাওয়া উচিত তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
হাম সারানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই। তবে পর্যাপ্ত পানি, সহজপাচ্য খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি দিতে সাহায্য করতে পারে। হামে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই; চিকিৎসা মূলত উপসর্গ কমানো, পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং জটিলতা এড়ানোর ওপর নির্ভর করে।
হাম হলে কী কী খাওয়া উচিত?
হামের সময় একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া যেতে পারে। ক্ষুধা কম থাকলেও শরীরে পানি ও পুষ্টি পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।
১. পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার
জ্বর, ঘাম, বমি বা ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ।
খেতে পারেন:
- সাধারণ পানি
- ওরস্যালাইন, প্রয়োজন হলে
- ডাবের পানি
- পাতলা স্যুপ
- তরল বা নরম খাবার
ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতার ঝুঁকি থাকলে ওরস্যালাইন উপকারী হতে পারে।
২. ভিটামিন A সমৃদ্ধ খাবার
হামের সময় ভিটামিন A গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের মাধ্যমে এটি পাওয়ার জন্য গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালং শাক, লাল শাক, পাকা পেঁপে এবং আমের মতো খাবার রাখা যেতে পারে।
তবে ভিটামিন A-এর high-dose ক্যাপসুল বা সাপ্লিমেন্ট নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়। হামে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী vitamin A দেওয়া হতে পারে। WHO হামে vitamin A ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছে, কারণ এটি কিছু জটিলতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩. ডিম ও অন্যান্য প্রোটিনযুক্ত খাবার
শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি ধরে রাখতে প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখা ভালো।
খেতে পারেন:
- সেদ্ধ ডিম
- মাছ
- মুরগির মাংসের পাতলা ঝোল
- ডাল
- নরম করে রান্না করা অন্যান্য প্রোটিনযুক্ত খাবার
ক্ষুধা কম থাকলে অল্প পরিমাণে খাওয়ানো যেতে পারে।
৪. নরম ও সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার
মুখ বা গলায় অস্বস্তি থাকলে শক্ত বা শুকনো খাবার খেতে সমস্যা হতে পারে। তখন নরম খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
যেমন:
- নরম ভাত
- জাউ বা পাতলা খিচুড়ি
- সুজি
- নরম ডাল
- সেদ্ধ সবজি
- দই-চিড়া, যদি খেতে ভালো লাগে
খাবার খুব গরম না দিয়ে সহনীয় তাপমাত্রায় দেওয়া ভালো।
৫. পুষ্টিকর ফল
হামের সময় শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি পৌঁছাতে ফল খাওয়া যেতে পারে। যেমন:
- পাকা পেঁপে
- কলা
- কমলা
- মাল্টা
- তরমুজ
- আম
তবে মুখে ঘা বা জ্বালাপোড়া থাকলে টক ফল খেলে অস্বস্তি বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে যে ফল খেলে আরাম লাগে সেটি বেছে নিন।
৬. রান্না করা সবজি
সবজি থেকে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারে নরম করে রান্না করা সবজি রাখা যেতে পারে।
লাউ, পটল, গাজর, মিষ্টি কুমড়া ও পালং শাকের মতো সবজি সহজভাবে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে।
৭. বুকের দুধ ও শিশুর স্বাভাবিক খাবার
হাম আক্রান্ত শিশু যদি বুকের দুধ পান করে, তাহলে বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক খাবারও যতটা সম্ভব চালিয়ে যেতে হবে।
হামে পুষ্টির ঘাটতি এড়াতে পর্যাপ্ত খাবার ও তরল দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
হাম হলে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
হামের সময় এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো, যেগুলো খেলে অস্বস্তি বা হজমের সমস্যা হতে পারে।
অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাদার খাবার
মুখ বা গলায় অস্বস্তি থাকলে বেশি ঝাল ও মশলাদার খাবার জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত তেল ও ভাজাপোড়া
তেলেভাজা ও ভারী খাবার হজমে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই এ সময় হালকা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
অপরিষ্কার বা খোলা খাবার
অসুস্থ অবস্থায় বাইরের খোলা বা অপরিষ্কার খাবার না খাওয়াই ভালো। পরিষ্কারভাবে তৈরি করা ঘরের খাবার বেছে নিন।
হাম হলে আরও কী কী করা উচিত?
শুধু খাবারের দিকে নজর দিলেই হবে না। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং তরল গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
জ্বর ও শরীর দুর্বল থাকলে পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে দূরে রাখা ভালো।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
পানি কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। বমি বা ডায়রিয়া থাকলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অন্যদের থেকে দূরে থাকুন
হাম খুব সহজে ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কখন দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হাম কখনও গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে। শ্বাস নিতে কষ্ট, খুব বেশি দুর্বলতা, খেতে বা পান করতে না পারা, পানিশূন্যতার লক্ষণ, অস্বাভাবিক ঘুমঘুম ভাব বা খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
শিশু, গর্ভবতী ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
শেষ কথা
হাম হলে কী কী খাওয়া উচিত—এর সহজ উত্তর হলো, পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবারের পাশাপাশি নরম, সহজপাচ্য এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। ডিম, মাছ, ডাল, নরম ভাত, সবজি ও পুষ্টিকর ফল খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
তবে কোনো খাবার বা ঘরোয়া উপায় হাম সারিয়ে দেয় না। হাম সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে vitamin A supplement নিজের ইচ্ছায় না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া নিরাপদ।
Fitness
কী খেলে ওজন কমে? ৫টি স্বাস্থ্যকর খাবার

কী খেলে ওজন কমে? ৫টি স্বাস্থ্যকর খাবার
ওজন কমানোর জন্য শুধু কম খাওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং অতিরিক্ত খাওয়া কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, কী খেলে ওজন কমে? স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ।
কী খেলে ওজন কমে?
ওজন কমানোর খাবার বলতে এমন খাবার বোঝায়, যেগুলো পুষ্টিকর এবং তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। নিচের ৫টি খাবার আপনার স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
১. ডিম
ডিম প্রোটিনের ভালো উৎস। সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিমের সঙ্গে সবজি বা আটার রুটি খেলে একটি পুষ্টিকর খাবার তৈরি হতে পারে। প্রোটিনযুক্ত খাবার পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
২. আপেল
আপেলে ফাইবার ও পানি থাকে। পুরো আপেল খেলে জুসের তুলনায় বেশি ফাইবার পাওয়া যায় এবং পেট ভরা অনুভূতি হতে পারে। তাই হালকা নাস্তা হিসেবে আপেল ভালো একটি বিকল্প।
৩. ওটস
ওটস একটি গোটা শস্য এবং এতে ফাইবার থাকে। সকালে দুধ বা টক দইয়ের সঙ্গে ওটস ও কিছু ফল খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি উপকরণ যোগ না করাই ভালো।
৪. বাদাম
কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও অন্যান্য বাদামে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। তবে বাদামে ক্যালরি বেশি হতে পারে, তাই অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো।
৫. সবুজ শাকসবজি
পালং শাক, লাউ, ব্রোকলি, বাঁধাকপি ও অন্যান্য সবজিতে ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি থাকে। খাবারের প্লেটে বেশি সবজি রাখলে কম ক্যালরিতে পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
ওজন কমাতে আরও কী করবেন?
শুধু কী খেলে ওজন কমে তা জানলেই হবে না। খাবারের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয় এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে পানি পান ও নিয়মিত শারীরিক activity-এর দিকে মনোযোগ দিন। দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ কথা
কোনো একটি খাবার একাই দ্রুত ওজন কমায় না। ওজন কমানোর জন্য ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা, খাবারের পরিমাণ ও দৈনন্দিন কাজের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা ভালো। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
Food Guides
বড়দের হাম হলে কী খেতে হবে? ৭টি পুষ্টিকর খাবার ও করণীয়

বড়দের হাম হলে কী খেতে হবে? ৭টি পুষ্টিকর খাবার ও করণীয়
বড়দের হাম হলে জ্বর, শরীর খারাপ লাগা, ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং মুখ বা গলায় অস্বস্তি হতে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি সহজে খাওয়া যায় এমন পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাম হলে কী খেতে হবে তা জানা থাকলে অসুস্থ অবস্থায় খাবার নির্বাচন করা সহজ হয়।
একবারে বেশি খাবার না খেয়ে দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খেতে পারেন। শরীরের সহনীয়তা অনুযায়ী নরম, হালকা ও সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার বেছে নেওয়াই ভালো।
বড়দের হামে কী খেতে হবে?
হাম হলে নিচের সহজ ও পুষ্টিকর খাবারগুলো খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন।
১. হালকা স্যুপ
সবজি বা মুরগির হালকা স্যুপ খেতে পারেন। স্যুপ সহজে খাওয়া যায় এবং শরীরে তরল গ্রহণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল ও মসলা না দিয়ে হালকা করে তৈরি করা ভালো।
২. ডিম ও অন্যান্য প্রোটিন জাতীয় খাবার
ডিম প্রোটিনের একটি ভালো উৎস। সেদ্ধ ডিম অথবা অল্প মসলা দিয়ে রান্না করা ডিম খেতে পারেন। পাশাপাশি ডাল বা মুরগির পাতলা ঝোলও খাবারের অংশ হতে পারে।
প্রোটিন শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সাহায্য করে। তবে খাবার হাম সারানোর চিকিৎসা নয়।
৩. নরম ভাত ও খিচুড়ি
ক্ষুধা কম থাকলে নরম ভাত বা হালকা খিচুড়ি খাওয়া সহজ হতে পারে। এ সময় বেশি তেল ও মসলা ব্যবহার না করে হালকা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
৪. ভিটামিন-সি যুক্ত ফল
কমলা, মাল্টা, পেয়ারা বা অন্যান্য সহজে খাওয়া যায় এমন ফল রাখতে পারেন। ফল থেকে পানি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া যায়।
মুখ বা গলায় অস্বস্তি থাকলে টক ফল বা লেবুর শরবত খেলে কারও কারও জ্বালা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই শরীরের সহনীয়তা অনুযায়ী ফল বেছে নিন।
৫. নরম করে রান্না করা সবজি
পালং শাক, গাজর, লাউসহ বিভিন্ন সবজি ভালোভাবে নরম করে রান্না করে খেতে পারেন। এগুলো খাবারে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগ করতে সাহায্য করে।
৬. দুধ বা সাধারণ দই
দুধ বা সাধারণ দই অনেকের জন্য সহজে খাওয়া যায়। তবে দুধ খেলে যদি পেটে অস্বস্তি হয়, তাহলে দুধের পরিবর্তে অন্য পুষ্টিকর খাবার বেছে নিতে পারেন।
৭. পানি ও অন্যান্য তরল
হাম হলে পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি হালকা স্যুপ ও উপযুক্ত অন্যান্য তরল খাবার গ্রহণ করতে পারেন।
হাম হলে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
হাম হলে ক্ষুধা কমে যাওয়া বা মুখ ও গলায় অস্বস্তি হতে পারে। তাই খুব ভারী, ঝাল বা তেলযুক্ত খাবারের পরিবর্তে হালকা খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
১. ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার
অতিরিক্ত তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার এ সময় কারও কারও বদহজম বা পেটের অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে বাইরের ভাজাপোড়া খাবারের পরিবর্তে হালকা ও কম তেলযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
২. ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার
অতিরিক্ত ঝাল বা কড়া মসলাযুক্ত খাবার মুখ ও গলায় অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। হামের সময় হালকা ও কম মসলার খাবার খাওয়া আরামদায়ক হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার
অনেক বেশি মিষ্টি খাবারের পরিবর্তে ফল, সবজি, ডিম, ডাল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া ভালো।
হাম হলে খাবারের পাশাপাশি কী করবেন?
হাম হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন এবং নিয়মিত পানি পান করুন। অসুস্থ অবস্থায় শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার গ্রহণ করুন।
হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় অসুস্থ অবস্থায় অন্য মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ কমানো গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ বা নির্দেশনা পেলে তা মেনে চলুন।
খাবার হাম সারানোর চিকিৎসা নয়। জ্বর বেশি হলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে না পারলে বা শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হাম হলে খাবার বাছাইয়ের সহজ নিয়ম
অসুস্থ অবস্থায় খাবার নির্বাচন করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে পারেন:
- একবারে বেশি খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খেতে পারেন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- নরম ও সহজে খাওয়া যায় এমন খাবার বেছে নিন।
- অতিরিক্ত ঝাল, মসলা ও তেলযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন।
- শরীরের সহনীয়তা অনুযায়ী ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খান।
- কোনো খাবার খেলে অস্বস্তি হলে সেটি এড়িয়ে চলুন।
উপসংহার
হাম হলে কী খেতে হবে—এটি জানা থাকলে অসুস্থ অবস্থায় সহজ ও পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়া যায়। নরম ভাত, খিচুড়ি, ডিম, হালকা স্যুপ, ফল, নরম করে রান্না করা সবজি, দই এবং পর্যাপ্ত পানি খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত ঝাল, মসলাযুক্ত, ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। তবে খাবার হাম সারানোর চিকিৎসা নয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Fitness
গরমে পানিশূন্যতা: ৭টি লক্ষণ ও কী করবেন

গরমে পানিশূন্যতা: ৭টি লক্ষণ ও কী করবেন
গরমে পানিশূন্যতা একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি বা তরল পান না করলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। তাই গরমে পানিশূন্যতা হলে এর লক্ষণগুলো দ্রুত চিনতে পারা এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
গরমে পানিশূন্যতা কেন হয়?
গরম আবহাওয়ায় শরীর ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে শরীরকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে। দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, ভারী শারীরিক পরিশ্রম করা কিংবা পর্যাপ্ত পানি ও তরল পান না করার কারণে শরীরে পানির ঘাটতি হতে পারে।
শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা দীর্ঘ সময় বাইরে কাজ করেন, তাদের গরমে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
গরমে পানিশূন্যতার ৭টি লক্ষণ
১. অতিরিক্ত তৃষ্ণা
গরমে পানিশূন্যতার একটি সাধারণ লক্ষণ হলো অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া। শরীরে পানির ঘাটতি হলে বারবার পানি পান করার ইচ্ছা হতে পারে।
২. মুখ ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মুখ ও জিহ্বা শুকনো মনে হতে পারে। পানিশূন্যতার কারণে লালার পরিমাণও কমে যেতে পারে।
৩. প্রস্রাব কমে যাওয়া
স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হওয়া বা প্রস্রাবের রং বেশি গাঢ় হওয়া শরীরে তরলের ঘাটতির একটি লক্ষণ হতে পারে।
৪. পানিশূন্যতায় মাথা ঘোরা
গরমে বেশি সময় থাকার পর শরীরে পানির ঘাটতি হলে দুর্বলতা, মাথা হালকা লাগা বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।
৫. গরমে পানিশূন্যতায় ক্লান্তি ও দুর্বলতা
শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। দৈনন্দিন কাজ করতেও শরীর বেশি দুর্বল লাগতে পারে।
৬. পানিশূন্যতায় মাথাব্যথা
শরীরে পর্যাপ্ত তরল না থাকলে কিছু মানুষের মাথাব্যথা হতে পারে। গরমে দীর্ঘ সময় থাকার পর মাথাব্যথার সঙ্গে তৃষ্ণা বা দুর্বলতা থাকলে পানিশূন্যতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
৭. পানিশূন্যতায় ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে গেলে ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় শুষ্ক মনে হতে পারে।
গরমে পানিশূন্যতা হলে কী করবেন?
গরমে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমে ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নিন। ধীরে ধীরে পানি পান করুন এবং নিয়মিত তরল গ্রহণ করুন।
অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট কমে গেলে ওআরএস (ORS) উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে প্রচুর ঘাম হলে শরীরে হারানো তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর সহজ উপায়
গরমের সময়ে বাইরে যাওয়ার আগে সঙ্গে পানির বোতল রাখুন। দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদ বা অতিরিক্ত গরমে থাকা এড়িয়ে চলুন।
তৃষ্ণা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে নিয়মিত পানি ও প্রয়োজনীয় তরল পান করার অভ্যাস করুন। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকতে হলে মাঝে মাঝে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রাম নিন।
গরমে পানিশূন্যতায় কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেবেন?
গরমে পানিশূন্যতার সঙ্গে যদি তীব্র দুর্বলতা, অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা তরল পান করতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন। এগুলো গুরুতর পানিশূন্যতা বা তাপজনিত অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে।
গরমে পানিশূন্যতা থেকে সুস্থ থাকার শেষ কথা
গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নিয়মিত পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং অতিরিক্ত গরম থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা। শরীরে পানির ঘাটতির লক্ষণগুলোকে অবহেলা না করে শুরুতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ভালো।
Uncategorized2 years agoThe Advantages of Ice facial
- Uncategorized2 years ago
Abaya Fashion
Mindfulness2 years agoMindfulness
Fitness4 days agoঅতিরিক্ত গরম: শরীরে কী হয়? ৭টি বিপজ্জনক লক্ষণ
Uncategorized2 years agoHow can you keep your relationship flawless and strong?
Uncategorized2 years agoHow to be confident presentation in 10 ways
Uncategorized2 years ago6 simple methods for doing pedicures at home.
Uncategorized2 years agoSome tips for a hair fall solution
























