Connect with us

Beauty Tips

ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায়

Published

on

ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায়

ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায়

চোখের নিচে কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল অনেকেরই সাধারণ একটি সৌন্দর্যগত সমস্যা। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ, অ্যালার্জি, চোখ ঘষার অভ্যাস, অতিরিক্ত রোদ, বয়স বাড়া বা বংশগত কারণেও চোখের নিচে কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তবে নিয়মিত কিছু সহজ যত্নের মাধ্যমে ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায় অনুসরণ করা সম্ভব।

ডার্ক সার্কেল কেন হয়?

ডার্ক সার্কেল হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবার ক্ষেত্রে একই কারণে চোখের নিচে কালচে দাগ তৈরি হয় না।

ঘুমের অভাব

নিয়মিত কম ঘুম হলে চোখের নিচের ত্বক ক্লান্ত ও ফ্যাকাশে দেখাতে পারে। এতে নিচের রক্তনালিগুলো বেশি দৃশ্যমান হয়ে ডার্ক সার্কেল আরও স্পষ্ট মনে হতে পারে।

মানসিক চাপ ও ক্লান্তি

দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ক্লান্তি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ডার্ক সার্কেল কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যালার্জি ও চোখ ঘষার অভ্যাস

অ্যালার্জির কারণে চোখ চুলকালে অনেকে বারবার চোখ ঘষেন। এতে চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা ও কালচে ভাব বাড়তে পারে।

রোদে অতিরিক্ত থাকা

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে মেলানিনের উৎপাদন বাড়াতে পারে। ফলে চোখের নিচের কালচে দাগ আরও গাঢ় দেখাতে পারে।

বংশগত কারণ ও বয়স

কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ডার্ক সার্কেল বংশগতভাবে দেখা যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে চোখের নিচের ত্বক পাতলা হওয়া বা ওই অংশে ভলিউম কমে যাওয়ার কারণেও ছায়ার মতো কালচে ভাব তৈরি হতে পারে।

ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায়

ডার্ক সার্কেল পুরোপুরি দূর করার কোনো একক ঘরোয়া উপায় নেই। তবে জীবনযাপন ও ত্বকের যত্নে কিছু পরিবর্তন চোখের নিচের কালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুমান

প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত ৭–৯ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে।

ঘুমানোর সময় ঠিক রাখা এবং রাতে অতিরিক্ত মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহারের অভ্যাস কমানোও উপকারী হতে পারে।

ঠান্ডা কমপ্রেস ব্যবহার করুন

পরিষ্কার কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে কয়েক মিনিট চোখের নিচে আলতোভাবে রাখতে পারেন।

ঠান্ডা কমপ্রেস সাময়িকভাবে ফোলা ও ক্লান্ত দেখানো চোখ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে বরফ সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না।

চোখ ঘষা বন্ধ করুন

চোখ চুলকালে বারবার ঘষার পরিবর্তে কারণটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চোখের চারপাশের ত্বক খুব সংবেদনশীল হওয়ায় অতিরিক্ত ঘষাঘষি কালচে ভাব বাড়াতে পারে।

রোদ থেকে চোখের চারপাশের ত্বক রক্ষা করুন

বাইরে যাওয়ার সময় ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজন হলে সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

চোখের খুব কাছাকাছি কোনো পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সেটি চোখের চারপাশের জন্য নিরাপদ কি না দেখে নিন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শরীরে পানিশূন্যতা থাকলে ত্বক শুষ্ক ও ক্লান্ত দেখাতে পারে। তাই সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন।

পুষ্টিকর খাবার খান

সুষম খাবার ত্বক ও শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রাখুন।

ডার্ক সার্কেলের জন্য স্কিন কেয়ার

সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিনও চোখের নিচের ত্বকের যত্নে সাহায্য করতে পারে।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার

চোখের চারপাশের ত্বক শুষ্ক হলে উপযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে পণ্যটি চোখের চারপাশে ব্যবহারের উপযোগী কি না তা অবশ্যই দেখে নিন।

ক্যাফেইনযুক্ত আই কেয়ার

কিছু আই ক্রিমে ক্যাফেইন থাকে, যা চোখের নিচের ফোলাভাব ও ক্লান্ত দেখানোর সমস্যা সাময়িকভাবে কমাতে সাহায্য করতে পারে।

ভিটামিন C ও নিয়াসিনামাইড

কিছু স্কিন কেয়ার পণ্যে ভিটামিন C বা নিয়াসিনামাইড থাকে, যা ত্বকের অসম রঙ ও কালচে ভাবের যত্নে ব্যবহার করা হয়।

তবে চোখের চারপাশে কোনো নতুন অ্যাকটিভ ব্যবহারের আগে পণ্যের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং জ্বালা হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারে সতর্কতা

অনেকে ডার্ক সার্কেল কমানোর জন্য লেবু, কমলার রস, টমেটোর রস বা অন্যান্য অ্যাসিডিক উপাদান চোখের নিচে ব্যবহার করেন। এসব উপাদান চোখের আশপাশের সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি বা ইরিটেশন তৈরি করতে পারে।

তাই চোখের নিচে সরাসরি কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানোর আগে সতর্ক থাকুন। বিশেষ করে চোখের খুব কাছাকাছি লেবু বা অন্যান্য অ্যাসিডিক উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি দীর্ঘদিন যত্ন নেওয়ার পরও ডার্ক সার্কেল একই থাকে বা দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

বিশেষ করে যদি চোখের নিচে অতিরিক্ত ফোলা, চুলকানি, লালভাব বা অন্য কোনো ত্বকের সমস্যা থাকে, তাহলে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

ডার্ক সার্কেলের চিকিৎসা কী হতে পারে?

ডার্ক সার্কেলের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ স্কিন কেয়ার পণ্য, প্রেসক্রিপশন চিকিৎসা, কেমিক্যাল পিল, লেজার বা অন্যান্য প্রসিডিউর বিবেচনা করা হয়।

তবে সবার জন্য একই চিকিৎসা কার্যকর নয়। ডার্ক সার্কেলের কারণ নির্ণয় করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই নিরাপদ।

শেষ কথা

ঘরে বসে ডার্ক সার্কেল কমানোর উপায় হিসেবে পর্যাপ্ত ঘুম, চোখ না ঘষা, ঠান্ডা কমপ্রেস, সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত স্কিন কেয়ার গুরুত্বপূর্ণ। তবে ডার্ক সার্কেল যদি বংশগত কারণ, বয়সজনিত পরিবর্তন বা চোখের নিচের গঠনের কারণে হয়, তাহলে শুধু ঘরোয়া যত্নে পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে।

তাই নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

Beauty Tips

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান: ৭টি উপায়

Published

on

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান ও পায়ের ত্বকের যত্ন

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান জানতে চাইলে পায়ের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়া ও শুষ্ক বাতাসের কারণে গোড়ালির ত্বক রুক্ষ হয়ে ফেটে যেতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, ভ্যাসলিন লাগানো এবং আরামদায়ক জুতা পরার মাধ্যমে ফাটা গোড়ালির সমস্যা কমাতে সাহায্য করা যায়।

শীতে গোড়ালি ফাটার কারণ

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গোড়ালির চামড়া শক্ত হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, খোলা স্যান্ডেল পরা, শক্ত মেঝেতে হাঁটা এবং পায়ের নিয়মিত যত্ন না নেওয়াও গোড়ালি ফাটার কারণ হতে পারে।

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধানে ৭টি উপায়

১. কুসুম গরম পানিতে পা ভেজান

কুসুম গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে শক্ত চামড়া নরম হতে সাহায্য করে। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে পা মুছে নিন। অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না এবং পা দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না।

২. পিউমিস পাথর ব্যবহার করুন

পা ভেজানোর পর গোড়ালির শক্ত চামড়ায় পিউমিস পাথর দিয়ে আলতোভাবে ঘষতে পারেন। এতে জমে থাকা মরা চামড়া কিছুটা দূর হয়। তবে বেশি জোরে ঘষবেন না। গোড়ালি গভীরভাবে ফাটা, রক্তপাত হওয়া বা ব্যথা থাকলে ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন।

৩. ভ্যাসলিন বা ময়েশ্চারাইজার লাগান

গোড়ালি ফাটার যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। পা ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ঘন ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

৪. রাতে সুতির মোজা পরুন

ঘুমানোর আগে গোড়ালিতে ভ্যাসলিন বা ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে পরিষ্কার সুতির মোজা পরুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য হয়। প্রতিদিন রাতে এই অভ্যাস চালিয়ে যেতে পারেন।

৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন

শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানির চাহিদা, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী পানি পান করুন। তবে শুধু পানি পান করলেই ফাটা গোড়ালি সেরে যায় না; ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোও দরকার।

৬. খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন

ঠান্ডা, রুক্ষ মেঝে এবং শক্ত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরুন, যাতে গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। গোড়ালি খোলা থাকে এমন জুতার পরিবর্তে পেছন ঢাকা জুতা ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে।

৭. নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন

প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখুন এবং ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। গোড়ালিতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সাবান ও ত্বক শুষ্ক করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে ইউরিয়া-যুক্ত ফুট ক্রিম ব্যবহার করা যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে, রক্তপাত হলে, তীব্র ব্যথা দেখা দিলে অথবা ফাটার স্থানে লালভাব, ফোলা কিংবা পুঁজ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস বা পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে নিজে পিউমিস পাথর দিয়ে ঘষবেন না এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শেষ কথা

শীতে গোড়ালি ফাটার সমস্যা কমাতে নিয়মিত পায়ের যত্ন, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, সুতির মোজা পরা এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের এই সহজ অভ্যাসগুলো পায়ের ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Continue Reading

Beauty Tips

শীতে ময়েশ্চারাইজার: কোনটি ভালো?

Published

on

শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন

শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো

শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ, খসখসে এবং টানটান হয়ে যেতে পারে। এ সময় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো, তা নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও ত্বকের সমস্যার ওপর। সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিলে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য পাওয়া যায়।

শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার কেন জরুরি?

শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হতে পারে। এর কারণে ত্বকে চুলকানি, রুক্ষতা, খসখসে ভাব এবং কখনো ফাটল দেখা দিতে পারে।

নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা স্তর ভালো রাখতে সাহায্য করে। গোসল বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যেতে পারে।

শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো: ত্বকের ধরন অনুযায়ী

সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

১. শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার

আপনার ত্বক যদি শীতকালে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে ঘন ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। গ্লিসারিন, সেরামাইড, পেট্রোলিয়াম জেলি বা শিয়া বাটারযুক্ত পণ্য আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

২. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার

তৈলাক্ত ত্বকেও শীতকালে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ ধরনের ত্বকের জন্য হালকা জেল বা লোশন বেছে নিতে পারেন। পণ্যের গায়ে “নন-কমেডোজেনিক” লেখা থাকলে তা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। এতে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

৩. সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার

সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিবিহীন বা “ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি” ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। সেরামাইড ও গ্লিসারিনযুক্ত পণ্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।

৪. মিশ্র ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার

মিশ্র ত্বকে সাধারণত মুখের কিছু অংশ তৈলাক্ত এবং অন্য অংশ শুষ্ক থাকে। এ ক্ষেত্রে হালকা লোশন বা মাঝারি ঘনত্বের ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের শুষ্ক অংশে প্রয়োজনে একটু বেশি ময়েশ্চারাইজার লাগান।

৫. ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার

ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য হালকা, সুগন্ধিবিহীন এবং নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। অতিরিক্ত ভারী বা ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন।

শীতের ময়েশ্চারাইজারে কোন উপাদান ভালো?

ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা দাম নয়, এর উপাদানগুলোর দিকেও নজর দিন।

গ্লিসারিন

গ্লিসারিন ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এটি একটি উপকারী উপাদান।

সেরামাইড

সেরামাইড ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখতে এবং আর্দ্রতা হারানো কমাতে সাহায্য করে। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের জন্য সেরামাইডযুক্ত ক্রিম ভালো বিকল্প হতে পারে।

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড

হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি গ্লিসারিন ও আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন অন্য উপাদানের সঙ্গে থাকলে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।

শিয়া বাটার ও পেট্রোলিয়াম জেলি

শিয়া বাটার ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বক থেকে পানি হারানো কমাতে কার্যকর। বিশেষ করে খুব শুষ্ক হাত, পা ও গোড়ালিতে এটি উপকারী হতে পারে।

শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম

১. মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।

২. মুখ ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছে নিন।

৩. ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।

৪. প্রয়োজন অনুযায়ী সকাল ও রাতে ব্যবহার করুন।

৫. দিনের বেলা বাইরে গেলে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

৬. হাত-পা বেশি শুষ্ক হলে সেখানেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান।

ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

  • নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করুন।
  • সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
  • মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করবেন না।
  • শুধু দামি হলেই পণ্য ভালো হবে, এমন ধারণা করবেন না।
  • নতুন পণ্য ব্যবহারে জ্বালাপোড়া বা র‍্যাশ হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।

শেষ কথা

শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো, তার সঠিক উত্তর পেতে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে পণ্য বেছে নিতে হবে। শুষ্ক ত্বকে ঘন ক্রিম, তৈলাক্ত ত্বকে হালকা লোশন বা জেল এবং সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ভালো বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত সঠিক যত্ন নিলে শীতকালেও ত্বকের আর্দ্রতা ও কোমলতা বজায় রাখতে সাহায্য পাবেন।

Continue Reading

Beauty Tips

শীতে হাত পায়ের যত্ন: ৭টি সহজ উপায়

Published

on

শীতে হাত-পায়ের যত্ন নিতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার

শীতে হাত পায়ের যত্ন

শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে হাত-পায়ের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ এবং খসখসে হয়ে যেতে পারে। অনেকের হাতের চামড়া উঠে যায়, আবার পায়ের গোড়ালি ফেটে অস্বস্তি হয়। তাই শীতের শুরু থেকেই শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ত্বক নরম, মসৃণ ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।

শীতে হাত-পায়ের যত্ন কেন জরুরি?

শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরম পানি, কড়া সাবান এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করার কারণেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাত, পায়ের পাতা ও গোড়ালির ত্বকে শুষ্কতা বেশি দেখা যায়।

শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়ার ৭টি সহজ উপায়

১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন

হাত-পা ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। গ্লিসারিন, পেট্রোলিয়াম জেলি বা সিরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার ব্যবহার করুন।

২. অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন

শীতে গরম পানি দিয়ে হাত-পা ধুতে ভালো লাগলেও অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।

৩. পায়ের গোড়ালির বিশেষ যত্ন নিন

গোড়ালি ফাটা কমাতে প্রতিদিন পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এরপর ঘন ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন। রাতে পরিষ্কার সুতির মোজা পরলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।

৪. হাত-পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন

বাইরে থেকে এসে হাত-পা পরিষ্কার করুন। পায়ের আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, কারণ দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কড়া সাবানের পরিবর্তে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন।

৫. বাইরে গেলে গ্লাভস ও মোজা পরুন

ঠান্ডা বাতাস থেকে হাত রক্ষা করতে গ্লাভস এবং পা উষ্ণ রাখতে মোজা ব্যবহার করুন। ভেজা মোজা দ্রুত পরিবর্তন করুন। এতে ত্বকের অস্বস্তি কমাতে ও আরাম বজায় রাখতে সাহায্য হয়।

৬. নখ ও কিউটিকলের যত্ন নিন

হাত-পায়ের নখ নিয়মিত পরিষ্কার ও ছাঁটা রাখুন। নখের চারপাশে শুষ্কতা দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজার লাগান। কিউটিকল কেটে ফেলা বা নখের পাশের চামড়া টেনে তোলা এড়িয়ে চলুন।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার খান

শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। সুষম খাবার ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

শীতে হাত-পায়ের যত্নে যেসব ভুল এড়াবেন

  • অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে হাত-পা ধোয়া।
  • শুষ্ক ত্বকে বারবার কড়া সাবান ব্যবহার করা।
  • গোড়ালির শক্ত চামড়া ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা।
  • পা ভেজা অবস্থায় মোজা পরে থাকা।
  • ত্বক ফেটে গেলে সুগন্ধিযুক্ত বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন পণ্য ব্যবহার করা।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

হাত-পায়ের ত্বকে গভীর ফাটল, রক্তপাত, অতিরিক্ত লালভাব, ফোলা, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ক্ষত বা ফাটলকে অবহেলা করবেন না। ক্ষত হলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

শেষ কথা

শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়া ও গোড়ালি ফাটার সমস্যা কমাতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং গ্লাভস-মোজা পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন অল্প সময় দিলেই শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া সহজ হয়ে উঠবে। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Continue Reading

Title

Trending