Beauty Tips
মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়: ৭টি কার্যকর টিপস

মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়: ৭টি কার্যকর টিপস
মুখের কালো দাগ ত্বকের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্রণের দাগ, অতিরিক্ত রোদে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন এবং ত্বকের প্রদাহের কারণে মুখে কালচে ছোপ দেখা দিতে পারে। মুখের কালো দাগ দূর করার উপায় জানতে হলে প্রথমে দাগের কারণ বুঝতে হবে এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত স্কিন কেয়ার ও সূর্যের আলো থেকে সুরক্ষা দাগ ধীরে ধীরে হালকা করতে সাহায্য করতে পারে।
মুখে কালো দাগ হওয়ার কারণ কী?
মুখে কালো দাগ হওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে।
- ব্রণ বা ত্বকের প্রদাহের পর কালচে দাগ।
- অতিরিক্ত সূর্যের আলোতে থাকা।
- হরমোনের পরিবর্তনজনিত মেলাজমা।
- ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন প্রসাধনী ব্যবহার।
- ত্বকের ক্ষত বা প্রদাহের পর অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি হওয়া।
মুখের কালো দাগ দূর করার উপায়: ৭টি কার্যকর টিপস
১. প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কালো দাগ আরও গাঢ় করতে পারে। তাই প্রতিদিন SPF 30 বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বাইরে থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় লাগান। এটি নতুন দাগ তৈরি হওয়া এবং পুরোনো দাগ গাঢ় হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
২. মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন
ত্বকের ময়লা, ঘাম ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে মৃদু ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন। দিনে সাধারণত দুইবার মুখ ধোয়া যথেষ্ট। খুব জোরে ঘষাঘষি করবেন না, কারণ এতে ত্বকে প্রদাহ বেড়ে দাগ আরও গাঢ় হতে পারে।
৩. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা, নন-কমেডোজেনিক পণ্য এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশি ময়েশ্চারাইজিং পণ্য উপযোগী হতে পারে।
৪. নিয়াসিনামাইডযুক্ত পণ্য বিবেচনা করুন
নিয়াসিনামাইড ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে এবং কিছু ক্ষেত্রে অসম ত্বকের রং হালকা করতে সহায়তা করতে পারে। কম ঘনত্বের পণ্য দিয়ে শুরু করুন এবং প্রথমে ত্বকের ছোট অংশে পরীক্ষা করুন। জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
৫. ব্রণের দাগ খুঁটবেন না
ব্রণ চেপে ধরা বা নখ দিয়ে খোঁচানো থেকে বিরত থাকুন। এতে প্রদাহ, সংক্রমণ এবং স্থায়ী দাগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ত্বকের উপযোগী মৃদু পণ্য ব্যবহার করুন।
৬. ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে এমন ঘরোয়া উপাদান এড়িয়ে চলুন
লেবুর রস, বেকিং সোডা বা শক্ত স্ক্রাব সরাসরি মুখে ব্যবহার করবেন না। এগুলো ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং কালো দাগ আরও বাড়াতে পারে। নিরাপদ ও ত্বকের উপযোগী পণ্য বেছে নেওয়াই ভালো।
৭. প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
দাগ দীর্ঘদিন থাকলে, বাড়তে থাকলে বা বারবার ফিরে এলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক অ্যাজেলেইক অ্যাসিড, রেটিনয়েড বা অন্য চিকিৎসা সুপারিশ করতে পারেন। গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে কোনো সক্রিয় উপাদান ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মুখের কালো দাগ কমতে কত দিন লাগে?
দাগের ধরন, গভীরতা, ত্বকের রং এবং যত্নের নিয়মের ওপর ফল নির্ভর করে। অনেক ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কালো দাগ দ্রুত বড় হলে, রং বা আকৃতি বদলালে, রক্তপাত হলে কিংবা চুলকানি বা ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সব কালো দাগ সাধারণ পিগমেন্টেশন নয়, তাই সঠিক কারণ শনাক্ত করা জরুরি।
শেষ কথা
মুখের কালো দাগ দূর করার জন্য নিয়মিত সানস্ক্রিন, মৃদু ক্লিনজিং, ময়েশ্চারাইজার এবং উপযুক্ত স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করুন। দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় কঠিন স্ক্রাব বা ক্ষতিকর ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করবেন না। দাগ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Beauty Tips
শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান: ৭টি উপায়

শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান
শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধান জানতে চাইলে পায়ের সঠিক যত্ন নেওয়া জরুরি। ঠান্ডা আবহাওয়া ও শুষ্ক বাতাসের কারণে গোড়ালির ত্বক রুক্ষ হয়ে ফেটে যেতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, ভ্যাসলিন লাগানো এবং আরামদায়ক জুতা পরার মাধ্যমে ফাটা গোড়ালির সমস্যা কমাতে সাহায্য করা যায়।
শীতে গোড়ালি ফাটার কারণ
শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গোড়ালির চামড়া শক্ত হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা, খোলা স্যান্ডেল পরা, শক্ত মেঝেতে হাঁটা এবং পায়ের নিয়মিত যত্ন না নেওয়াও গোড়ালি ফাটার কারণ হতে পারে।
শীতে গোড়ালি ফাটার সমাধানে ৭টি উপায়
১. কুসুম গরম পানিতে পা ভেজান
কুসুম গরম পানিতে ৫–১০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে শক্ত চামড়া নরম হতে সাহায্য করে। এরপর নরম তোয়ালে দিয়ে পা মুছে নিন। অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করবেন না এবং পা দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না।
২. পিউমিস পাথর ব্যবহার করুন
পা ভেজানোর পর গোড়ালির শক্ত চামড়ায় পিউমিস পাথর দিয়ে আলতোভাবে ঘষতে পারেন। এতে জমে থাকা মরা চামড়া কিছুটা দূর হয়। তবে বেশি জোরে ঘষবেন না। গোড়ালি গভীরভাবে ফাটা, রক্তপাত হওয়া বা ব্যথা থাকলে ঘষাঘষি এড়িয়ে চলুন।
৩. ভ্যাসলিন বা ময়েশ্চারাইজার লাগান
গোড়ালি ফাটার যত্নে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। পা ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ঘন ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
৪. রাতে সুতির মোজা পরুন
ঘুমানোর আগে গোড়ালিতে ভ্যাসলিন বা ঘন ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে পরিষ্কার সুতির মোজা পরুন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য হয়। প্রতিদিন রাতে এই অভ্যাস চালিয়ে যেতে পারেন।
৫. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানির চাহিদা, আবহাওয়া ও শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী পানি পান করুন। তবে শুধু পানি পান করলেই ফাটা গোড়ালি সেরে যায় না; ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগানোও দরকার।
৬. খালি পায়ে হাঁটা এড়িয়ে চলুন
ঠান্ডা, রুক্ষ মেঝে এবং শক্ত মাটিতে খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। নরম ও আরামদায়ক জুতা পরুন, যাতে গোড়ালিতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। গোড়ালি খোলা থাকে এমন জুতার পরিবর্তে পেছন ঢাকা জুতা ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে।
৭. নিয়মিত পায়ের যত্ন নিন
প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখুন এবং ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। গোড়ালিতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান। অতিরিক্ত সুগন্ধিযুক্ত সাবান ও ত্বক শুষ্ক করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে ইউরিয়া-যুক্ত ফুট ক্রিম ব্যবহার করা যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
গোড়ালি গভীরভাবে ফেটে গেলে, রক্তপাত হলে, তীব্র ব্যথা দেখা দিলে অথবা ফাটার স্থানে লালভাব, ফোলা কিংবা পুঁজ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস বা পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে নিজে পিউমিস পাথর দিয়ে ঘষবেন না এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
শীতে গোড়ালি ফাটার সমস্যা কমাতে নিয়মিত পায়ের যত্ন, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, সুতির মোজা পরা এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের এই সহজ অভ্যাসগুলো পায়ের ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ব্যথা বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Beauty Tips
শীতে ময়েশ্চারাইজার: কোনটি ভালো?

শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো
শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ, খসখসে এবং টানটান হয়ে যেতে পারে। এ সময় ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো, তা নির্ভর করে আপনার ত্বকের ধরন ও ত্বকের সমস্যার ওপর। সঠিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিলে ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং ত্বক নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য পাওয়া যায়।
শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার কেন জরুরি?
শীতের শুষ্ক বাতাস ত্বক থেকে আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকি বাড়ায়। ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর দুর্বল হতে পারে। এর কারণে ত্বকে চুলকানি, রুক্ষতা, খসখসে ভাব এবং কখনো ফাটল দেখা দিতে পারে।
নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ত্বকের সুরক্ষা স্তর ভালো রাখতে সাহায্য করে। গোসল বা মুখ ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগালে ভালো উপকার পাওয়া যেতে পারে।
শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো: ত্বকের ধরন অনুযায়ী
সবার ত্বক এক রকম নয়। তাই ময়েশ্চারাইজার কেনার আগে নিজের ত্বকের ধরন বুঝে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
১. শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
আপনার ত্বক যদি শীতকালে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়, তাহলে ঘন ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট ধরনের ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। গ্লিসারিন, সেরামাইড, পেট্রোলিয়াম জেলি বা শিয়া বাটারযুক্ত পণ্য আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
২. তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
তৈলাক্ত ত্বকেও শীতকালে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ ধরনের ত্বকের জন্য হালকা জেল বা লোশন বেছে নিতে পারেন। পণ্যের গায়ে “নন-কমেডোজেনিক” লেখা থাকলে তা বেছে নেওয়া সুবিধাজনক হতে পারে। এতে রোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
৩. সংবেদনশীল ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিবিহীন বা “ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি” ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। সেরামাইড ও গ্লিসারিনযুক্ত পণ্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নিন।
৪. মিশ্র ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
মিশ্র ত্বকে সাধারণত মুখের কিছু অংশ তৈলাক্ত এবং অন্য অংশ শুষ্ক থাকে। এ ক্ষেত্রে হালকা লোশন বা মাঝারি ঘনত্বের ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। ত্বকের শুষ্ক অংশে প্রয়োজনে একটু বেশি ময়েশ্চারাইজার লাগান।
৫. ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার
ব্রণপ্রবণ ত্বকের জন্য হালকা, সুগন্ধিবিহীন এবং নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। অতিরিক্ত ভারী বা ত্বকে অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন পণ্য এড়িয়ে চলুন।
শীতের ময়েশ্চারাইজারে কোন উপাদান ভালো?
ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় শুধু ব্র্যান্ড বা দাম নয়, এর উপাদানগুলোর দিকেও নজর দিন।
গ্লিসারিন
গ্লিসারিন ত্বকে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এটি একটি উপকারী উপাদান।
সেরামাইড
সেরামাইড ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর বজায় রাখতে এবং আর্দ্রতা হারানো কমাতে সাহায্য করে। শীতকালে শুষ্ক ত্বকের জন্য সেরামাইডযুক্ত ক্রিম ভালো বিকল্প হতে পারে।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি গ্লিসারিন ও আর্দ্রতা ধরে রাখে এমন অন্য উপাদানের সঙ্গে থাকলে ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়।
শিয়া বাটার ও পেট্রোলিয়াম জেলি
শিয়া বাটার ত্বক নরম রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বক থেকে পানি হারানো কমাতে কার্যকর। বিশেষ করে খুব শুষ্ক হাত, পা ও গোড়ালিতে এটি উপকারী হতে পারে।
শীতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
১. মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করুন।
২. মুখ ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছে নিন।
৩. ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান।
৪. প্রয়োজন অনুযায়ী সকাল ও রাতে ব্যবহার করুন।
৫. দিনের বেলা বাইরে গেলে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
৬. হাত-পা বেশি শুষ্ক হলে সেখানেও নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান।
ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
- নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী পণ্য নির্বাচন করুন।
- সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিযুক্ত পণ্য এড়িয়ে চলুন।
- মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য ব্যবহার করবেন না।
- শুধু দামি হলেই পণ্য ভালো হবে, এমন ধারণা করবেন না।
- নতুন পণ্য ব্যবহারে জ্বালাপোড়া বা র্যাশ হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
শেষ কথা
শীতে কোন ময়েশ্চারাইজার ভালো, তার সঠিক উত্তর পেতে নিজের ত্বকের ধরন ও প্রয়োজন বুঝে পণ্য বেছে নিতে হবে। শুষ্ক ত্বকে ঘন ক্রিম, তৈলাক্ত ত্বকে হালকা লোশন বা জেল এবং সংবেদনশীল ত্বকে সুগন্ধিবিহীন ময়েশ্চারাইজার ভালো বিকল্প হতে পারে। নিয়মিত সঠিক যত্ন নিলে শীতকালেও ত্বকের আর্দ্রতা ও কোমলতা বজায় রাখতে সাহায্য পাবেন।
Beauty Tips
শীতে হাত পায়ের যত্ন: ৭টি সহজ উপায়

শীতে হাত পায়ের যত্ন
শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়া ও বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে হাত-পায়ের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ এবং খসখসে হয়ে যেতে পারে। অনেকের হাতের চামড়া উঠে যায়, আবার পায়ের গোড়ালি ফেটে অস্বস্তি হয়। তাই শীতের শুরু থেকেই শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ত্বক নরম, মসৃণ ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব।
শীতে হাত-পায়ের যত্ন কেন জরুরি?
শীতকালে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গেলে ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত গরম পানি, কড়া সাবান এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করার কারণেও এই সমস্যা বাড়তে পারে। বিশেষ করে হাত, পায়ের পাতা ও গোড়ালির ত্বকে শুষ্কতা বেশি দেখা যায়।
শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়ার ৭টি সহজ উপায়
১. নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
হাত-পা ধোয়ার পর ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান। গ্লিসারিন, পেট্রোলিয়াম জেলি বা সিরামাইডযুক্ত ময়েশ্চারাইজার শুষ্ক ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজন অনুযায়ী দিনে কয়েকবার ব্যবহার করুন।
২. অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুন
শীতে গরম পানি দিয়ে হাত-পা ধুতে ভালো লাগলেও অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে দিতে পারে। তাই কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন এবং ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে মুছে নিন।
৩. পায়ের গোড়ালির বিশেষ যত্ন নিন
গোড়ালি ফাটা কমাতে প্রতিদিন পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। এরপর ঘন ময়েশ্চারাইজার বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন। রাতে পরিষ্কার সুতির মোজা পরলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
৪. হাত-পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন
বাইরে থেকে এসে হাত-পা পরিষ্কার করুন। পায়ের আঙুলের ফাঁক ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, কারণ দীর্ঘক্ষণ ভেজা থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। কড়া সাবানের পরিবর্তে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করুন।
৫. বাইরে গেলে গ্লাভস ও মোজা পরুন
ঠান্ডা বাতাস থেকে হাত রক্ষা করতে গ্লাভস এবং পা উষ্ণ রাখতে মোজা ব্যবহার করুন। ভেজা মোজা দ্রুত পরিবর্তন করুন। এতে ত্বকের অস্বস্তি কমাতে ও আরাম বজায় রাখতে সাহায্য হয়।
৬. নখ ও কিউটিকলের যত্ন নিন
হাত-পায়ের নখ নিয়মিত পরিষ্কার ও ছাঁটা রাখুন। নখের চারপাশে শুষ্কতা দেখা দিলে ময়েশ্চারাইজার লাগান। কিউটিকল কেটে ফেলা বা নখের পাশের চামড়া টেনে তোলা এড়িয়ে চলুন।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার খান
শীতকালে তৃষ্ণা কম লাগলেও নিয়মিত পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, বাদাম এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখুন। সুষম খাবার ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শীতে হাত-পায়ের যত্নে যেসব ভুল এড়াবেন
- অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে হাত-পা ধোয়া।
- শুষ্ক ত্বকে বারবার কড়া সাবান ব্যবহার করা।
- গোড়ালির শক্ত চামড়া ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা।
- পা ভেজা অবস্থায় মোজা পরে থাকা।
- ত্বক ফেটে গেলে সুগন্ধিযুক্ত বা জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন পণ্য ব্যবহার করা।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হাত-পায়ের ত্বকে গভীর ফাটল, রক্তপাত, অতিরিক্ত লালভাব, ফোলা, পুঁজ বা তীব্র ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডায়াবেটিস থাকলে পায়ের ক্ষত বা ফাটলকে অবহেলা করবেন না। ক্ষত হলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
শেষ কথা
শীতকালে ত্বক শুষ্ক হওয়া ও গোড়ালি ফাটার সমস্যা কমাতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, কুসুম গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করা এবং গ্লাভস-মোজা পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রতিদিন অল্প সময় দিলেই শীতে হাত-পায়ের যত্ন নেওয়া সহজ হয়ে উঠবে। ত্বকের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
Uncategorized2 years agoThe Advantages of Ice facial
- Uncategorized2 years ago
Abaya Fashion
Mindfulness2 years agoMindfulness
Fitness2 months agoঅতিরিক্ত গরম: শরীরে কী হয়? ৭টি বিপজ্জনক লক্ষণ
Uncategorized2 years agoHow can you keep your relationship flawless and strong?
Uncategorized2 years agoSome tips for a hair fall solution
Uncategorized2 years ago6 simple methods for doing pedicures at home.
Uncategorized2 years agoHow to be confident presentation in 10 ways



















